Banner Advertise

Thursday, March 10, 2011

Re: [chottala.com] Re: The need for balanced and pragmatic views on all issues



ঝড়ের নাম প্রফেসার ইউনূস

 

মীজান রহমান

এবছর দেশ থেকে কোনও বড়রকমের ঝড়ের খবর আসেনি---প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক বা আর্থসামাজিক, কোন প্রকারেরই না। সেটা ভাল খবর। আমরা, দেশবিদেশের অনাবাসী বাংলাদেশীরা, ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে উঠছিলাম সেই অসম্ভব সুন্দর 'ভাল' শব্দটিতে, আশ্বস্ত হয়ে উঠছিলাম একটু একটু করে যে অভাগা দেশটির ভাঙ্গা নৌকার ছেঁড়া মাস্তূলে বুঝি পালের হাওয়া বইতে শুরু করেছে এতকাল পর। কিন্তু না, তা হয় কি করে! ঝড়ের দেশ কি ঝড় ছাড়া বাঁচতে পারে? এবার প্রকৃতি বা বিরোধী দল নয়, সরকার নিজেই একটা ঝড় সৃষ্টি করে দিলেন। সেই ঝড়ের নাম 'প্রফসার মুহাম্মদ ইউনূস'।
আজকে ই-মেইল খুলে দেখি মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা (৫ই মার্চ, '১১) "প্রফেসার মুহাম্মদ ইউনূস ও বাংলাদেশ" শীর্ষক নিবন্ধটির একটা অনুলিপি পাঠিয়েছেন আমাকে কোনও সহৃদয় স্বদেশী। জাফর ইকবালের লেখা পড়ে আমি সবসময়ই আনন্দ পাই---তাঁর মতামতের সঙ্গে প্রায় কখনোই আমার মতানৈক্য হয়না। তবে তাঁর এবারকার লেখাটির প্রথম বাক্যটির সাথে সম্পূর্ণ একমত হতে পারছি না। তিনি লিখেছেনঃ "যাঁরা প্রফেসার মুহাম্মদ ইউনূস, গ্রামীণ ব্যাংক, বাংলাদেশ সরকার এবং দেশের আইনকানুন নিয়ে নির্মোহ, বস্তুনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ আলোচনা পড়তে চান, তাঁদের এ লেখাটি পড়ার প্রয়োজন নেই"। লেখক নিজেকে "অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট" ব্যক্তি বলে ব্যক্ত করেছেন; সেটা তাঁর স্বভাবসিদ্ধ বিনয়নম্রতা যতটা প্রকাশ করে বাস্তবতা হয়ত ততটা করে না। তবে আমার আপত্তির কারণ অন্যত্রঃ তাঁর এই বাক্যটিতে যে-ক'টি বিশেষণ তিনি ব্যবহার করেছেন সেই বিশেষণযুক্ত ব্যক্তি সারা বাংলাদেশ খুঁজলে ক'জন পাওয়া যাবে সেবিষয়ে আমার কিঞ্চিৎ সন্দেহ আছে। গণিতের ভাষায় বলতে গেলে তাঁর বর্ণিত সেটটি একেবারে void না হলেও অনেকটা sparse বলেই আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস।(লজ্জার মাথা খেয়ে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে আমি নিজে সেই বিপুল void শ্রেনীরই অন্তর্গত)।
প্রফেসার ইউনূসকে যখন শান্তির নোবেল দেওয়া হয় ২০০৬  সালে তখন দেশব্যাপী যে তুমুল আনন্দধ্বনি বজ্রস্বরে ঝংকৃত হয়ে উঠেছিল টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত, তার সঙ্গে ক্রিকেট খেলার বিজয়োৎসবের হর্ষধ্বনির খানিক মিল আছে সন্দেহ নেই। দুটোই দেশের বিরল গৌরবে জাতির উল্লাসে উচ্ছ্বাসে উদ্বেল হয়ে উঠার ব্যাপার। কিন্তু দু'টি গৌরব ঠিক একই সারিতে ফেলার মত নয়। ক্রিকেট নিয়ে দেশবাসীর একরকম নেশাগ্রস্ততা সৃষ্টি হয়েছে ঠিকই, অনেকটা ব্রেজিল আর কলম্বিয়ার ফুটবলাসক্তির মত, কিন্তু মূলত ক্রিকেট আর ফুটবল দুটোই খেলা ছাড়া কিছু নয়। শান্তির নোবেল বা অন্য যে-কোনও নোবেল তা নয়। নোবেল যাঁরা পান তাঁরা খেলার মাঠের খেলোয়াড় নন, বিশ্বমঞ্চের খেলোয়াড়। ক্রিকেটে যদি বিশ্বজয়ীও হয় কোনদিন বাংলাদেশ (নিশ্চয়ই হবে কোন-না-কোনদিন) তাহলেও তাতে শুধু একটা জিনিসই প্রমাণ হবে যে অন্তত একটি আন্তর্জাতিক খেলাতে বাংলাদেশ বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে, জাতিহিসেবে তারা যত অনুন্নতই হোক। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেলের মূল বিষয়টি আরো ব্যাপক। সেটি হল এইঃ আমাদের দেশ, আমাদের এই প্রাণের দেশ, বাংলাদেশ, এত দুঃখদারিদ্র্য সত্ত্বেও, তার চিত্তে চেতনায় বোধে এতই শক্তি আর এতই সম্ভার রয়েছে  যে তারই এক কৃতী সন্তান, ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস, তাঁর নিজের স্বপ্নের বীজ ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন সমস্ত বিশ্বব্যাপী, যে বীজ থেকে উৎপন্ন হতে চলেছে বিশ্বদারিদ্র্য মোচনের এক বিপুল সম্ভাবনার মায়াবৃক্ষ। '০৬ সালের আগে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের কোনও সম্মান ছিল না, ছিল না কোন মানমর্যাদা। সেটা দেশের মানুষ মানতে না চাইলেও আমরা যারা দেশের বাইরে আছি বহুকাল তারা ভাল করেই জানি। জাফর ইকবালের লেখাতেও সেটা প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু '০৬ সালের নোবেল ঘোষণা আমাদের দেশটিকে রাতারাতি একটা ভিন্ন মাত্রাতে পৌঁছে দেয় গোটা পৃথিবীতে। সহসা বাংলাদেশ নামক দেশটির প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে লাগলেন দেশবিদেশের গুনীজনেরা। '৭২ থেকে '০৬ পর্যন্ত আমরা ছিলাম দানপ্রার্থী গ্রহীতা জাতি, এই প্রথমবারের মত আমরা আসন পেলাম দাতাদের কাতারে। না, অর্থের দাতা নয়, ত্রাণসম্পদের দাতাও নয়, আমরা হলাম স্বপ্নের দাতা, আশার দাতা। ডক্টর ইউনূস একটা ব্যাংক তৈরি করার জন্যে নোবেল পাননি, পেয়েছিলেন একটা বিশাল আইডিয়া দিতে পেরেছিলেন বলে বিশ্ববাসীকে। মানুষের পরিচয় তার জাতধর্ম বা বংশ দিয়ে নয়, পরিচয় তার কাজে। কিন্তু সব কাজ মানুষকে সমান মর্যাদা দেয় না, কারণ সব কাজের সমান মূল্য নয়। কোন কোন কাজ কোন কোন মানুষকে সাধারণের সমতল থেকে উত্তোলিত করে  ক্ষণজন্মাদের দরবারে হাজির করে দেয়---তারা অমর হয়। তারা অমর হয় কারণ তারা নিজেদের অজান্তে আরো অনেক মানুষের জীবনে আমূল পরিবর্তন এনে দেন, নৈরাশ্যের অন্ধকারে জ্বালান আলোর মশাল, প্রেরণা যোগান আশাহীন প্রাণে, ক্ষমতা যোগান ক্ষমতাহীনের মনে---ভবিষ্যতের অমরদের জন্যে রচনা করে দেনআগামী পথের নীলনক্সা। ডক্টর ইউনূসের বড় কাজ তাঁর গ্রামীণ ব্যাংক নয়, বড় কাজ তাঁর সেই মৌলিক আইডিয়াটি---ক্ষুদ্রেরও বৃহৎ হবার অধিকার আছে, বিশেষ করে সমাজের সবচেয়ে বঞ্চিত, অবহেলিত ও নিগৃহীত যে নারীজাতি, তাদেরও আছে স্বাবলম্বী হবার সহজাত অধিকার। এই সহজ বিশ্বাসটিকে তিনি বাস্তবায়ন করার একটি পন্থা এঁকে দিয়েছিলেন, যা কেউ কল্পনা করেনি আগে, দেশে বা বিদেশে, প্রথমে নিজ দেশের ভাগ্যাহত নারীকূলের জন্যে, পরে গোটা বিশ্ববাসীদের জন্যে। '০৬ সালের নোবেল ছিল সেই ঋণেরই বিনীত স্বীকৃতি মাত্র। প্রফেসার ইউনূসের আইডিয়া আজকে পৃথিবীর বহু দেশে অনুসৃত হচ্ছে বিপুল সাফল্যের সাথে। এমনকি বিশ্বের সর্বোন্নত দেশ যুক্তরাষ্ট্রেরও শিকাগো সহ বিভিন্ন শহরে গ্রামীণ ব্যাংকের মডেল অনুসরণ করে উপকৃত হচ্ছেন বলেন শোনা যাচ্ছে অনেক দরিদ্র সম্প্রদায়।
আমি জানি দেশের বুদ্ধিজীবি মহলের একটা বড় অংশ ডক্টর ইউনূসকে কেবল 'সুদখোর' হিসেবেই দেখতে প্রস্তুত, তাঁর অন্যান্য পরিচয়ে তাঁদের যেন কোনরকম আগ্রহ নেই। অথচ আমি যতদূর জানি সারা বিশ্বের বুদ্ধিজীবিরা কিন্তু ডক্টর ইউনূসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এমনকি অনেক পথের মানুষের মুখেও তাঁর নাম শুনেছি। এদেশের গুণিজনদের বিচারে ডক্টর ইউনূস, যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত মার্টিন লুথার কিং, কেনিয়ার কিংবদন্তীয় সমাজকর্মী ওয়াঙ্গারি মুটা মাথাই, এঁরা প্রায় একই কাতারের মানুষ---পথিকৃৎ, স্বপ্নদ্রষ্টা, নায়ক। মার্টিন লুথার পুরো একটা জাতিকে হতাশার গভীর অন্ধকার  থেকে জাগ্রত করে একটি সিংহশক্তিতে পরিণত করেছিলেন "আমার একটি স্বপ্ন আছে"র যাদুমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করে। ওয়াঙ্গারি মাথাই কেনিয়ার মত একটি পশ্চাদপদ, গোত্রবাদী ও অগণতান্ত্রিক দেশটিতে সূচনা করেছিলেন দীর্ঘসূত্রীয় উন্নয়ন, জাতীয়তাবোধ ও অগ্রপন্থী চিন্তার বলিষ্ঠ ধারা। আর আমাদের এই প্রিয় মানুষটি, এই যুদ্ধক্লান্ত ভগ্নপ্রাণ ডক্টর ইউনূস, আজকে যাকে বনের নিরীহ প্রাণীর মত ধাওয়া করে বেড়াচ্ছে একপাল হিংস্র জীব, সেই মানুষটিও তেমনি করে এক বিশাল স্বপ্নের বাণী নিয়ে এনেছিলেন বিশ্বদরবারেঃ আসুন আমরা সবাই মিলে কাজে লেগে যাই---আমরা একদিন দারিদ্র্যকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেব, দারিদ্র্য হবে ইতিহাসের পাতায় কৌতূহলের বস্তু। দেশের বিজ্ঞ সুধীজনেরা হয়ত বলবেন পাগলের প্রলাপ। উণ্মাদ। হতে পারে উণ্মাদ আমাদের দেশের মহামহিমদের বিচারে, কিন্তু সত্যিকার দরদ্রি যারা, তাদের জন্যে এ এক বড় স্বপ্ন। জীবনের অধিকাংশ সময় তো তাদের একমাত্র সহায়ই ওই স্বপ্নটুকু। তাছাড়া আপনারাই বলুন, বড় স্বপ্ন ছাড়া কি পৃথিবীতে সত্যিকার বড় কাজ কখনও হয়েছে?
দয়া করে, দোহাই আপনাদের, এই লোকটিকে এমন করে আর ধাওয়া করবেন না আপনারা। আপনারা শুনতে পাচ্ছেন কিনা জানিনা, পৃথিবীর চারদিকে আজকে ধিক ধিক আওয়াজ শুরু হয়ে গেছে। দেশের মানসম্মান যেটুকু ছিল সব আমরা খোয়াতে বসেছি এই আশ্চর্যরকম অর্বাচীন কাজটুকুর জন্যে। গোটা বিশ্বে এমন একটি দেশ নেই যেখানে চিন্তাশীল মানুষেরা বিস্ময়বিমূঢ় হয়ে পড়ছেন নাবাংলাদেশের এই অদ্ভুত আচরণে।

অটোয়া, ৭ই মার্চ,'১১
মুক্তিসন ৪০



On Thu, Mar 10, 2011 at 2:24 PM, Helal Ahmed <huahmed@yahoo.com> wrote:
 

Dear Saif bhai:

 

Assalamualikum. I choose to address you as Saif bhai cause in your previous two responses you mentioned me as Helal Bhai. It feels much closer when someone addresses you as bhai. Though you are much elder to me, I'm flattered that you addressed me that way.

 

Hope you are not going to harm me after knowing my whereaboutsJ. I have been way from home since the beginning of 1996 but fortunate enough to go home on regular basis sometime twice a year. I moved to Canada from US in 2004 and currently residing in greater Toronto area (GTA). I earned an MBA degree from Chittagong University and a second one from Texas A&M - Commerce. My late father wondered how I managed to complete two MBA degrees without much study. I convinced him that it was His and my Mother's non-stop prayers helped me get through.

 

Though I left my country for better future (physically) but I'm always there through my soul. Bangladesh gave me so much that, at times, I feel ashamed for not being able to give anything back to Her. Currently I'm trying to establish IT outsourcing business with Bangladesh so that our next generation might have a better prospect ahead of them. If i fail, at least, i will be able tell myself that i tried.

 

I hope I shared enough to give you an idea about me. You may reach me at 647 828-3796 if you feel like yelling for arguing with a respected retired ambassador.

 

Thanks.

Helal

--- On Thu, 3/10/11, md. saiful KHAN <saifakhan01@gmail.com> wrote:


From: md. saiful KHAN <saifakhan01@gmail.com>
Subject: The need for balanced and pragmatic views on all issues
To: "Helal Ahmed" <huahmed@yahoo.com>
Cc: alapon@yahoogroups.com, "Khabor Dot Com" <info@khabor.com>, "Abba" <hussain7192@rogers.com>, khabor@yahoogroups.com, chottala@yahoogroups.com, "Nuran Nabi" <nurannabi@gmail.com>
Date: Thursday, March 10, 2011, 12:08 PM

Dear Bhai Helal

I have read your email response.

Thanks for your balanced response to my comment and observation.

But I think that you continue to remain unfair in your remarks on Dr. Nabi and freedom fighters.

Let us not be in real haste to reply back again to you. I hope to share some further thoughts on the overall issue next week.

I am a bit intrigued as to how long you are abroad and where are you based. So enlighten us further on this point later at your discretion and time convenient to you.


Saif Khan






__._,_.___


[* Moderator�s Note - CHOTTALA is a non-profit, non-religious, non-political and non-discriminatory organization.

* Disclaimer: Any posting to the CHOTTALA are the opinion of the author. Authors of the messages to the CHOTTALA are responsible for the accuracy of their information and the conformance of their material with applicable copyright and other laws. Many people will read your post, and it will be archived for a very long time. The act of posting to the CHOTTALA indicates the subscriber's agreement to accept the adjudications of the moderator]




Your email settings: Individual Email|Traditional
Change settings via the Web (Yahoo! ID required)
Change settings via email: Switch delivery to Daily Digest | Switch to Fully Featured
Visit Your Group | Yahoo! Groups Terms of Use | Unsubscribe

__,_._,___